ঢাকায় এটাই কি মাশরাফির শেষ?

দুদিনই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অধিনায়কের দুই সংবাদ সম্মেলনে অনেক পার্থক্য। পরশু শুধুই বিজয়ী দলের অধিনায়ক হয়ে নয়, তাঁর মাথায় ছিল ম্যাচের নায়ক হওয়ার অদৃশ্য একটা মুকুট। আজ এলেন পরাজিত অধিনায়ক হয়ে পরাজয়ের ব্যাখ্যা দিতে।

পরশু মাশরাফির ক্লান্তিমাখা মুখটাও দেখিয়েছে আশ্চর্য উজ্জ্বল। একই ম্যাচে দুটি জয় হয়েছিল তাঁর; প্রথমটি দলীয়, দ্বিতীয়টি ব্যক্তিগত—উজ্জ্বল তো দেখাবেই। কিন্তু প্রতিদিন যে জেতা যায় না, মাশরাফিও জিতেননি আজ। অধিনায়কের মুখ তাই বিষণ্ন, হতাশাচ্ছন্ন। এ বিষাদে উঁকি দিল কিছু প্রশ্ন—আজই কি ঢাকায় শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটা খেলে ফেললেন মাশরাফি? আজই কি ‘হোম অব ক্রিকেটে’ লাল-সবুজ জার্সিতে শেষবারের মতো তাঁর মাঠে নামা? এই ২২ গজে নিজের শেষ ম্যাচ বলেই কি ১০ ওভার বোলিং শেষে উইকেটে খানিকক্ষণ থমকে দাঁড়ালেন?

মাশরাফি আবেগতাড়িত হতে চাইলেন না, সযতনে এড়িয়ে যেতে চাইলেন প্রসঙ্গটা, ‘আমাদের দুই ওভারের ঘাটতি ছিল। মিরাজকে দিয়ে একটা সুযোগ নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওর এক ওভারে ১১ রান নিয়েছে। চিন্তা করছিলাম যে কাকে অন্য প্রান্ত থেকে ব্যবহার করা যায়। ওটাই তখন চিন্তা করছিলাম।’ এড়িয়ে যেতে চাইলেই কি হয়! প্রশ্নটা আবার হলো। এবার মাশরাফির উত্তর, ‘না, বলতে পারছি না। এখনই বলা কঠিন। হতেও পারে, নাও হতে পারে।’

বর্তমানে বসে মাশরাফি ভবিষ্যতের কথা বলতে চান না। বললে দলে কিংবা নিজের খেলায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে, সেটিও তাঁকে ভাবতে হচ্ছে। বিষয়টা আপাতত সময়ের কাছে ছেড়ে দিতে চান তিনি। কিন্তু আজ না কি অনেক দর্শক আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন তাঁকে নিয়ে।

স্টেডিয়ামের বাইরে অনেককে কাঁদতেও দেখা গেছে, এক সাংবাদিক সেটি মাশরাফিকে জানালে অধিনায়কের মনটাও যেন আর্দ্র হয়ে উঠল, ‘খুবই স্বাভাবিক। আমরা তো এমনি ইমোশনাল। (এটি) অবশ্যই স্পর্শ করবে। তারা কান্নাকাটি করছে, এটা দেখলে আমারও খারাপ লাগত। যেটা বললাম, আমরা এমনি একটু ইমোশনাল। এটা যতটা না ভালো লাগার, তাদের জন্য আমারও খারাপ লাগে। এটা একটা প্রক্রিয়া, একদিন না একদিন যেতে হবে। টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায় নিয়েছে বছরখানেক হয়ে গেছে। এখন ওয়ানডে ক্রিকেট খেলছি। আর কিছুদিন হয়তো খেলব। তবে এটাই শেষ ম্যাচ কি না (মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে) এখনই বলা কঠিন। আমি আপনাদের অনেকবারই বলেছি, কখনো কিছু ঠিক করে কাজ করি না। এমনই হতে পারে, পরের ম্যাচ খেলে ভালো লাগছে না, ছেড়েও দিতে পারি। আমার মন তাৎক্ষণিকভাবে যা সায় দেয়, সেটাই করি। এভাবে কিছু বলা আমার জন্যও কঠিন। তবে এসব আমাকে অবশ্যই আবেগাক্রান্ত করে। এসব ঘটলে উভয়েরই (মাশরাফি ও দর্শক) মন কিছুটা নরম হয়ে যায়। এটা যত ভালো অনুভূতি হোক, কিছুটা খারাপও লাগে।’

Facebook Comments